মালদ্বীপের মডেল রাওদা আতিফ হত্যা মামলা তদন্তে সিআইডি
মালদ্বীপের মডেল ও রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাওদা আতিফ হত্যা মামলা তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ২৯ মার্চ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাওদার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রাওদাকে হত্যার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন তার বাবা মোহাম্মদ আতিফ। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। বৃহস্পতিবার মামলা দুটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এরপর সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক তদন্তকাজ শুরু করেছেন। রাজশাহী সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী শাহ মখদুম থানা থেকে সিআইডিতে মামলা দুটি হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, মামলা দু’টি হলেও ঘটনা একই। তাই সিআইডি’র রাজশাহীর পরিদর্শক আসমাউল হককে দুই মামলারই তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি দুই মামলারই কাগজপত্র আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন বলে জানান ড. নাজমুল। এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত রাওদার আত্মহত্যার বিষয়টিই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বা প্ররোচনাকারী কেউ বা কারা থাকতে পারে কি না তা পরবর্তী তদন্তে হয়তো বের হয়ে আসবে। তবে চূড়ান্ত তদন্তকাজ শুরু করেছে সিআইডি। ভারতের বিখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হওয়ার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন ‘নীল নয়না’ মডেল রাওদা। তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ১৩তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বিদেশি কোটায় ভর্তির পর গত বছরের ১৪ জানুয়ারি কলেজের মহিলা হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ০৯ নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তিনি। এ কক্ষে আরও ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকেন। ২৯ মার্চ রাওদার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কক্ষটির বাসিন্দা ও কাশ্মীরের শিক্ষার্থী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন রাওদার বাবা মোহাম্মদ আতিফ। মামলার এজাহারে রাওদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার জন্য সিরাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে গত ১ এপ্রিল দুপুরে নগরীর হেতমখাঁ গোরস্থানে রাওদা আতিফকে দাফন করা হয়।